খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শায়েস্তাগঞ্জে নতুন ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরী যোগদান

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
শায়েস্তাগঞ্জে নতুন ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরী যোগদান

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরী যোগদান করেছেন। তিনি যোগদান করায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বাসীর স্বস্তি ফিরেছে ।

জানাযায় , বিদায়ী ইউএনও মোঃ নাহিদ হোসেন দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান শান্ত গত ৭ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ইউএনও হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান শান্ত কাছ থেকে মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরী দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন।

তিনি এর আগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির করার পর গত ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি ২ তারিখে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর , গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা করেন । সেখানে সকলের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা , অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ , শিক্ষা ব্যবস্থার মনোনয়ন এবং সরকারি সেবা সমূহ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর তিনি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়ে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা তাঁর -ই স্থলে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বিসিএস – ৩৭ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা । তিনি যোগদান করার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তা – কর্মচারী , বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তা – কর্মচারীরা সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন , সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি , গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ , সব – শ্রেণীর মানুষ , সাংবাদিক সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি হাঁটিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ একটি আলোকিত উপজেলা হিসেবে উন্নয়ন গড়ে তোলা হবে। সবার সহযোগিতা পেলে শায়েস্তাগঞ্জ হবে দেশের সেরা উন্নত ও সমৃদ্ধ উপজেলা ।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।