খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

যশোরে অনলাইন হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক

শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
যশোরে অনলাইন হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক

যশোরের রেলবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে এসআরবি-৬ যশোরের সদস্যরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেলবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের নামে তৈরি করা নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি কার্ড, অনলাইনে জাল নথি তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার বোংকিরা গ্রামের পিকুল বিশ্বাসের ছেলে আল মুছাব্বির রিয়াদ, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের ইমান আলীর ছেলে রাসেল হোসেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাতানগাছি গ্রামের শহিদুজ্জামানের ছেলে ফাহিম সাদিক এবং একই উপজেলার জলিলপুর গ্রামের সজল আলীর ছেলে সিয়াম আলী।

এসআরবি-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিন ধরে রেলবাজার এলাকার লাল মিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে বসে তারা এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির মূল টার্গেট ছিল বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা। তারা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বা হ্যাক করে সেসব নথিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ছবি ও তথ্য বসিয়ে জাল নথি তৈরি করতেন। পরে এসব নকল নথি বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, চক্রটির বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেলবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।

অভিযানকালে বিভিন্ন দেশের নামে তৈরি করা নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, নকল ভোটার আইডি কার্ড, অনলাইনে তৈরি বিভিন্ন জাল নথি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-৬ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও জাল নথি তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।