খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভূমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায়: মনোহরদীতে মেলা শুরু

মোঃ আঃ কুদ্দুস, মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ভূমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায়: মনোহরদীতে মেলা শুরু

জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ -প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নরসিংদীর মনোহরদীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা । মঙ্গলবার সকালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস প্রাঙ্গনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে বণ্যাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। মেলা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এ মুহাইমিন আল জিহান এর সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার ভূমি মো: সজিব মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, উপজেলা সাব রেজিস্টার গোবিন্দ সাহা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, শুকুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গনি ফরাজিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিসেবা মেলা পালিত হচ্ছে। ভূমিসেবার উন্নয়নে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বসহ কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন, নাগরিকদের অনলাইনে ফি লেনদেন, হটলাইন নম্বরে সেবা, ই-রেজিস্ট্রেশন ও ডিজিটাল ভূমিসেবা সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ, ডিজিটালাইজড ভূমি রেকর্ড, স্মার্ট ভূমি নকশা, ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু ও ভূমি আইনের সংস্কার করা হয়েছে।

পরে মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক এক প্রাণবন্ত কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা ভূমি সেবা, ভূমি আইন, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতার পরিচয় দেয়।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন এবং ভূমি সংক্রান্ত সঠিক জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।