খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অপরাধ দমনে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং

রাজধানীতে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ বা আরও কঠোর আইন প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে Rapid Action Battalion (র‍্যাব)। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি Naymul Hasan।

Adabar-এ ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের বর্তমান প্রধান ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নবনির্বাচিত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদাবরের ঘটনাকে তারা কোনো বিচ্ছিন্ন ছিনতাই হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি রাজধানীতে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর বেপরোয়া হয়ে ওঠার একটি বড় উদাহরণ। এ কারণে অভিযানের কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দমনে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ অনুসরণ করা হবে।

অ্যাক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে এজেন্টকে কুপিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনার পর বিকেলে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

অভিযানের অংশ হিসেবে Mohammadpur-এর ঢাকা উদ্যানের কাছে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে গেলে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন।

এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সরাসরি নেতৃত্বে চক্রটির কার্যক্রম কমে গেলেও সংগঠনটি পুরোপুরি ভেঙে যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীদের একটি বড় অংশ ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

র‍্যাব জানায়, গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবু (৫৭), আবু সাইদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), লিটন (২৮), তৌসিফ (৩০) ও তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাক্সেল বাবু ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা দেন এবং আবু সাইদ এই দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেই অপরাধী চক্র নির্মূল হয় না, কারণ এসব চক্রের পেছনে থাকে প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।

নয়মুল হাসান বলেন, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত বিচার হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস