খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বান্দরবানে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা

কৌশিক দাশ ,বান্দরবান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা

“ করব মোরা ফল চাষ,সংরক্ষণ করব বারো মাস ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬|
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন)সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো.সানিউল ফেরদৌস|


এসময় পাহাড়ে উৎপাদিতে নানা জাতের আম,জাম,আনারস,কলা, লিচু,মাশরুমসহ বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখে অতিথিরা|
পরে উপ পরিচালকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়|
এসময় বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো.সানিউল ফেরদৌস| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো.ওহাবুল ইসলাম খন্দকার|


এসময় বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.সেলিম, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ,কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন|


সভায় বক্তারা পাহাড়ে উৎপাদিত ফরমালিনমুক্ত নানা জাতের দেশী বিদেশী জাতের ফলের চাহিদা দেশব্যাপী মন্তব্য করে চাষীদের আরো পুষ্টিকর ফলের উৎপাদন বাড়ানোর আহবান জানান| বক্তারা এসময় আরো বলেন, কৃষি বিভাগ চাষীদের ফল উৎপাদনে নানা ধরণের প্রশিক্ষণ,বীজ,সারসহ বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রেখেছে আর আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে| এসময় বক্তারা, বাড়ীর আশেপাশেসহ কোন জমি পরিত্যক্ত না রেখে বিভিন্ন ফলের চারা রোপনের আহবান জানান এবং সারা বছর যাতে সবাই ফল খেতে পারে সেজন্য কৃষির প্রতি আরো মনোযোগি হতে আহবান জানান|
সভা শেষে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন চাষীর হাতে বিনামুল্যে চারা বিতরণ করেন অতিথিরা|

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।