খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জাল দলিলের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কে এম রাজীব, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে জাল দলিলের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যম কাঞ্চনা ইউনিয়নের নন্দীপাড়া এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগে সমীর নন্দী (৭৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

গতকাল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিল এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা।

তিনি জানান, আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়ার মধ্যম কাঞ্চনা এলাকার বাসিন্দা বিজয় কুমার নন্দী গত বছরের জুলাই মাসে সমীর নন্দীকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে কোনো স্বত্ব না থাকা সত্ত্বেও সমীর নন্দী জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃষ্টি করে ওই সম্পত্তির অংশ অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে রয়েছেন। এছাড়া শ্মশানভূমির অংশসহ কিছু জমি চুক্তিভিত্তিক অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বাদী বিজয় কুমার নন্দী বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হলে তদন্ত শেষে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী সমীর নন্দী। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে তার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ রয়েছে এবং তিনি তা বিক্রি করেননি। প্রয়োজনের কারণে কিছু জমি চুক্তিভিত্তিক অন্য একজনের কাছে ব্যবহার করতে দিয়েছেন।

এদিকে মো. ওসমান নামে অপর এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে জমি ব্যবহার করছেন। কোনো জালিয়াতি বা জবরদখলের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। শ্মশানভূমির ওপর দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

মামলার আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, একই সম্পত্তি নিয়ে আরও কয়েকটি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও অন্যান্য বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।