খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮০ কোটি টাকার আধুনিক ওএসএস ভবনের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দরে ৮০ কোটি টাকার আধুনিক ওএসএস ভবনের উদ্বোধন

 চট্টগ্রামে বেলুন উড়িয়ে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হলো বন্দরের নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ভবন। যেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বুধবার ( ১ জুলাই ) সকাল পৌনে ১২টার দিকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য, পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি বন্দরের অভ্যন্তরে থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে হতো। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্দর পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো। নতুন ভবন চালুর ফলে বন্দরের বাইরে থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

নতুন এই ভবনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ভবন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। সে হিসেবে এক বছরের মধ্যেই নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা (আইএসপিএস কোড) অনুসরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বন্দর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসময় অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনের নিচতলায় রিসেপশন এবং প্রথম তলায় টোকেন বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তিনটি তলায় বন্দরের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি তলায় ব্যাংকের বুথও স্থাপন করা হয়েছে।

ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি তলা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবন চালুর ফলে বন্দরের বিভিন্ন সেবা আরও দ্রুত, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম কমে গিয়ে বন্দরের নিরাপত্তা, পরিচালন দক্ষতা এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।