খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভপাতের চেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভপাতের চেষ্টার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজরিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছরের এক কিশোরী কে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশী সাজিদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা! 

এলাকার একাধিক যুবক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা হতে পারে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিচারের আশ্বাস দিয়ে কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমন অভিযোগ করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

 

ঘটনাটি উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে । চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মা স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তার মা মারা যায়। এরমধ্যে প্রতিবেশী মহিউদ্দিনের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা বেঁচে না থাকার সুযোগ নিয়ে সাজিদ মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ হলে, একপর্যায়ে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি জানায়, সে অন্তঃসত্ত্বা।

 

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কতিপয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের বাধা দেন। তারা আদালতের বাইরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তকে বাঁচাতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ওই প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে সাজিদ জড়িত। তবে সে নিজেকে বাঁচাতে তার কয়েকজন বন্ধুর নাম জড়িয়ে বিষয়টিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মাতব্বরেরা আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করায় এতদিন আমরা কিছু করিনি। কিন্তু তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাজিদের বক্তব্য জানতে তার বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেল থেকেই সে আত্মগোপনে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার মুঠোফোনে জানায় বিষয়টি আমি শুনেছি, যখন ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারি আমি পুলিশে সহায়তা নিতে বলেছি।

 

বিষয়টি সম্পর্কে ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাদত আলী বলেন, “বিষয়টি আমি বিভিন্ন মাধ্যমে যেনেছি, ভুক্তভোগী পরিবার যদি আমাদের কাছে আসে, তবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

 

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি তদন্ত মো. সাব্বির হোসেন বলেন, “ ভুক্তভোগীর ভাই আশরাফুল আলম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ তার বৃত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আসামি গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত আছে, আশাকরি খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে পারবো।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।