খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।

বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা ‘মোবাইল মনির’, গ্রেপ্তার

নাজমুল
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতা ‘মোবাইল মনির’, গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো: মনির হোসেন ওরফে মোবাইল মনির ওরফে সিটি মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টায়
আশুলিয়ার নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকা থেকে আশুলিয়া থানার সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আশরাফুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার মো: মনির হোসেন (৪৬) সাভার পৌরসভার উত্তর রাজাসন এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস খানের ছেলে। তিনি সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। মনিরের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আদালতে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সি.আর মামলা দায়ের হয়। ঘটনাস্থল রাজধানীর কোতোয়ালী থানা এলাকা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালত।
এ সময় ওই মামলায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ ৭ বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে যুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালে আদালত মনিরের এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। তিনি আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর থেকে তাকে ধরতে নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার বিকালে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় তার অবস্থান জানতে পেরে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এছাড়াও স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালীন সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মো: মনির হোসেন। ঘটনার পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এতদিন তিনি সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার শেল্টারে সাভার সদর ইউনিয়নের উত্তর কলমা এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বিএনপির এই নেতার ছত্রছায়ায় থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে পলাতক সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের নির্দেশে সাভার থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন করছিলেন তিনি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও নিষিদ্ধ এই আওয়ামী লীগ নেতার মুঠোফোনে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার একাধিকবার কথোপকথনের তথ্য উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলাসহ রাজধানীর কোতোয়ালী থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। আজ শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসসহ ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে ছাত্র-জনতা জমায়েত হলে তৎকালীন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন।