খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন : সিটি মেয়র 

চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন : সিটি মেয়র 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তেমনি যুবসমাজকে মাদক, অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলীতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই। রোববার ( ৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শহীদ শাহজাহান মাঠে চট্টগ্রাম দেশ রক্ষা তারেক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

 

মেয়র বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার। তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি যুবসমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ফুটবল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। মাঠের প্রতিযোগিতা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ঐক্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তোলে। একটি সুস্থ, মেধাভিত্তিক ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় খেলাধুলার বিকল্প নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের মতো তরুণরা যেভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, বর্তমান প্রজন্মকেও সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে মুখোমুখি হয় প্রবাসী কিংস চট্টগ্রাম ও শহীদ ওয়াসিম আকরাম একাদশ। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় ট্রাইবেকারে। সেখানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে প্রবাসী কিংস চট্টগ্রাম। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন প্রবাসী কিংস চট্টগ্রাম এবং জাতীয় দলের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান প্রবাসী কিংসের জাফর ইকবাল। এছাড়া শহীদ ওয়াসিম আকরাম একাদশের ওহি বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন এবং পটিয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব টুর্নামেন্টের সুশৃঙ্খল দল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।