খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ার ইসমানিরচরে নদীভাঙন আতঙ্ক, বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তায় শতাধিক পরিবার

গজারিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
গজারিয়ার ইসমানিরচরে নদীভাঙন আতঙ্ক, বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তায় শতাধিক পরিবার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর গ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের শিকার হয় গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বড় বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ভাঙ্গন ঠেকাতে নিজেদের সাধ্যমত কাজ করছে, অনেকে বসত ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও নদীর কিনারা থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে বসতঘর। আবার কোথাও ভাঙনের মুখে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা।

 

স্থানীয়রা বলছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ নেমে আসে। নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোভাবে ভিটেমাটি রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃতির কাছে সেই চেষ্টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

ভাঙনের শিকার ছোট পাঁচআনি এলাকার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, নদী আমার বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে গেছে। বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছিল। আবার ফিরে এসেছি, কিন্তু এবারও একই পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে আবার সব হারাতে হবে।

 

স্বামী হারা ছায়া রাজবংশী তার কন্যা বিয়ে দিয়ে এখন একা থাকেন নদীর পাড়ের ঘরে। স্বামী-সন্তানহীন ছায়া রাজবংশী বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া ঘরের অর্ধেক আগেই নদীতে চলে গেছে। এখন বাকি অংশটুকুও ঝুঁকিতে। একমাত্র সম্বল হারালে কোথায় যাব, কোথায় থাকবো।

 

গ্রামের বাসিন্দারা আব্দুল হাফফার বলেন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি যে কোনো সময় এটি নদীতে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানিও হতে পারে।

 

কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গবাদিপশু ও গোয়ালঘর রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। পরিবার নিয়ে চরম মানসিক কষ্টে আছি।

 

স্থানীয় জেলে পরিবারগুলোর অভিযোগ, নদীই তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ নদীই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি অনেকে জীবিকাও হারানোর পথে।

 

স্থানীয় সুসীল সমাজ ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ এর সুদৃষ্টি আমরা কামনা করি। আশাকরি অতি দ্রুত এমপি কামরুজ্জামান রতন আমাদের এখানে সরজমিনে আসবে এবং আমাদের জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ করবেন।

 

এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, নদী বেষ্টিত উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। এরমধ্যে ইমামপুর উনিয়নের কালিপুর এলাকায় ভাঙ্গন অংশে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্থানে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

গজারিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সামিউল আরাফিন বলেন, ইসমানিরচর ঘাট এলাকায় কিছু অংশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি অংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন প্রকল্পের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।