খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শ্রীপুরে মাদকাসক্ত স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক স্ত্রীর, ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক

শ্রাবণী আক্তার, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে মাদকাসক্ত স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক স্ত্রীর, ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকসেবী স্বামীর ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় দুই শিশু সন্তান ঘটনাটি দেখলেও ভয়ে তার বাবাকে কিছু বাধা দেননি। ঘটনার পর স্বামী পালিয়ে গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্য রাত পৌণে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (লিচু বাগান) মজনুর বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তার (২৭) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার খৈলাসপুর (বনপাড়া) গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। ঘাতক স্বামী সাইদুল ইসলাম ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার গিদাপাড়া (বাদরাকান্দা) গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

 

নিহতের গ্রামের বাড়ীর প্রতিবেশী শামীম মিয়া বলেন, নাসিমা আক্তারের স্বামী মাদকসেবী। প্রায়ই নেশার টাকার জন্য তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। পরে প্রায় মাস খানেক আগে নাসিমা তার দুই সন্তান আট বছরের এক মেয়ে এবং পাঁচ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে শ্রীপুরে চলে আসে। শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (লিচু বাগান) মজনুর বাড়ীতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ওয়ানটেক্স পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। রবিবার (১২ জুলাই) নাসিমা প্রথম মাসের বেতন পেয়ে বাসায় যায়। খবর পেয়ে ওই রাতেই তার স্বামী সাইদুল ইসলাম বাসায় আসে। রাতে তার স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে স্বামী তার দুই সন্তানের সামনে স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে এলোপাতাড়ী ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবরিনা তাহসিন বলেন, পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তার শরীরে উপর্যুপুরি একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাদী মোহাম্মদ বলেন, নিহত পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী সাইদুল ইসলাম পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কর হবে।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।