খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চরম অব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে অবহেলার কারণে গত ৫ দিনের টানা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গুরুত্বপূর্ণ দলিল, বালাম বই ও সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে অফিসের বিভিন্ন কক্ষের মেঝেতে স্তূপ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দলিলের বান্ডিলে উইপোকার আক্রমণেরও অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদে একাধিক ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে বিভিন্ন কক্ষে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। এতে বহু দলিল, বালাম বই ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ভিজে লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে গেছে। অফিসের কর্মচারীরা ভেজা নথিপত্র ফ্যান ও ইলেকট্রিক আয়রনের সাহায্যে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে বহু মূল্যবান দলিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক দলিল এখনও বালামে তোলা হয়নি এবং অনেক নথির লেখা মুছে গেছে। তিনি বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল সংরক্ষণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কালিয়াকৈরবাসীর স্বার্থে দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ সাব-রেজিস্ট্রি ভবন নির্মাণ জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্টার মো. কামরুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টির পানিতে কিছু মূল্যবান দলিল ও বালাম বই ভিজে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেগুলো ফ্যানের বাতাস ও ইলেকট্রিক আয়রনের সাহায্যে শুকানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।