খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

৩৯ বছরের আলোকিত শিক্ষকতা জীবনের অবসান, আবেগঘন বিদায়ে সিক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
৩৯ বছরের আলোকিত শিক্ষকতা জীবনের অবসান, আবেগঘন বিদায়ে সিক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান

প্রায় চার দশক ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে অনন্য অবদান রাখার পর অবসরে গেলেন মুন্সীরহাট জি অ্যান্ড এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান। দীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিতে বিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক এবং অফুরন্ত ভালোবাসায় বিদায় জানান বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল স্মৃতিচারণ, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার এক অনন্য আবহ। প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো সম্মান জানাতে বিদ্যালয়ে ভিড় করেন বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের সেই ভালোবাসা ও সহকর্মীদের আবেগে পুরো অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে।
বিদায়ী বক্তব্যে কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না। তোমরা সৎ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করবে—এটাই আমার জীবনের শেষ প্রার্থনা।”
তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করার আহ্বান জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের একজন অভিভাবক, প্রেরণাদাতা ও আদর্শ মানুষ। তার আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ এবং মানবিক আচরণ প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম বৃদ্ধিতেও তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিদায়ী এই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করেন এবং তার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
৩৯ বছরের কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে কাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান বেঁচে থাকবেন হাজারো শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে, ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধায়। তার শিক্ষা, আদর্শ, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলায় অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।