খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

নেসকোর সদর দপ্তর সরানোর উদ্যোগে উদ্বেগ, রাজশাহীবাসীর প্রশ্ন—আবারও কি বঞ্চিত হবে রাজশাহী

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
নেসকোর সদর দপ্তর সরানোর উদ্যোগে উদ্বেগ, রাজশাহীবাসীর প্রশ্ন—আবারও কি বঞ্চিত হবে রাজশাহী

রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর সদর দপ্তর বগুড়ায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং রাজশাহী অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যদি প্রকৃত অর্থেই বিকেন্দ্রীকরণের নীতি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে শুধু নেসকো নয়, ঢাকাকেন্দ্রিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরও প্রয়োজন ও বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, খামারবাড়ি এবং নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে, রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দপ্তর ইতোমধ্যেই বগুড়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হয়, তাহলে বিভাগের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে নাটোরকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বারবার রাজশাহীর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, শুধুমাত্র একটি চিঠি বা একক সুপারিশের ভিত্তিতে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

রাজশাহীর মানুষের প্রশ্ন, উন্নয়নের নামে আর কতবার এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে? তারা মনে করেন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কোনো অঞ্চলকে বারবার বঞ্চিত না করে তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।