খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি প্রশাসন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি প্রশাসন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

বিশেষ প্রতিনিধি: রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘন্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার Return on Investment (ROI) মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অফ ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। উক্ত কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।