খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

দেশকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে সরকার: প্রযুক্তি মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
দেশকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে সরকার: প্রযুক্তি মন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিপ ডিজাইন,বায়ো-ইলেকট্রনিক্সসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নির্মাতা দেশ হিসেবেও  প্রতিষ্ঠিত করা হবে বলে জানিয়েছেন  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ।

রবিবার ২৬ জুলাই ঢাকায় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এন্ড বেয়ার (BEAR) সামিট ২০২৬ এর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডিপ-টেক ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আলোচনায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তিপণ্য ও প্রযুক্তিসেবার উদ্ভাবন এবং রপ্তানিতে ‘Made in Bangladesh’ ব্র্যান্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী।এ সময় সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণরাই এই খাতের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। উদ্ভাবনী, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তায় তরুণদের পাশে থাকবে সরকার।

এই বিইএআর (BEAR) সামিট প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ একা নয়। শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাতের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিশেষজ্ঞরা আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। তাই এটি কেবল একটি সম্মেলন নয়; এটি একটি আন্দোলনের সূচনা।

বর্তমান সরকার অত্যন্ত ব্যবসা-বান্ধব। যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাকে পাশে পাবেন। আপনাদের সুযোগ তৈরি করতে এবং দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব। এরপর বৈশ্বিক একাডেমিক প্লেনারি অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রি পেরুলিস। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা হোসাইন, পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার বাংলাদেশ, নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।