খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে: টুকু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে: টুকু

বিশেষ প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

৮ আগস্ট শনিবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা দিতে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে তাদের কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন আমাদের একটি স্মারকলিপি দিয়েছে কর্মসংস্থানের বিষয়ে। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। এই ফ্যাকালিটির ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়ালেখা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা পায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের কর্মসংস্থান বাড়বে।’

মৎস্য খাতে জনবল ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বক্তব্যে অনেকেই বলেছেন, একটি উপজেলায় একজন ফিশারিজ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ৫০০ জনের অধিক জনবলের অনুমোদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নেওয়া হবে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল রয়েছে। সরকার কীভাবে দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে আধুনিক ও উন্নতমানের ভেটেরিনারি হাসপাতাল করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। আমরা ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করি। যতবার এই দেশের মানুষ নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবার বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। ’বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি। বিএনপি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক দল।

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য রায় দিয়েছেন, পাঁচ বছর দেখেন আমাদের কর্মকাণ্ড। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খননসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতগুলো কর্মকাণ্ড নিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে নিয়েছেন।ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আজকে সেই জনগণকে যারা দুর্ভোগে ফেলতে চায়, যারা ষড়যন্ত্র করে, যাদের তর সইছে না, অস্থির হয়ে গেছে- কীসের অস্থিরতা? আগে দেখেন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, জনগণই বিচার করবে কে দেশ পরিচালনা করবে। আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। আপনারা ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন।বিএসভিইআর- এর ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলীমুল ইসলাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান এবং ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ কে এম খসরুজ্জামান।

তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।