খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জামশেদের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল

কে এম রাজীব
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে জামশেদের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল

এইচএসসি পরীক্ষা চলছে জামশেদুল ইসলামের। পরীক্ষার এই সময়ে তাঁর ব্যস্ত থাকার কথা শুধু পড়াশোনা নিয়ে। কিন্তু চার সদস্যের পরিবারের খরচও যে তাঁকেই চালাতে হয়। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ফুডপান্ডার ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করেন তিনি।

সাইকেলে করে খাবার পৌঁছে দিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়ে চলত সংসার ও নিজের পড়াশোনার খরচ। হঠাৎ সেই সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। নতুন সাইকেল কেনার সামর্থ্য ছিল না জামশেদের। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও পরীক্ষা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি।
জামশেদের এই সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সোমবার জামশেদের হাতে তাঁর পছন্দের একটি নতুন সাইকেল তুলে দেন ডিসি জাহিদ।

 

 

জানা যায়, জামশেদ চট্টগ্রাম সরকারি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মক্ষমতাহীন। চার সদস্যের পরিবারে উপার্জনের দায়িত্ব তাই অনেকটাই জামশেদের কাঁধে। সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেননি তিনি। ফুড ডেলিভারির কাজ বেছে নেন। কিন্তু উপার্জনের একমাত্র বাহন সাইকেলটি চুরি হওয়ার পর বিপাকে পড়েন। পরে সহায়তা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন জামশেদ। আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি জামশেদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর পড়াশোনা ও পরিবারের পরিস্থিতির কথা জেনে একটি নতুন সাইকেল কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, একজন ছাত্র নিজে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে আমি তার এই কাজটাকে সম্মান জানাতে চাই। সে কাজও করতে চেয়েছে, আবার পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে চেয়েছে। জেলা প্রশাসন তাই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি চাই না, কোনো অবস্থাতেই তার পড়াশোনা বন্ধ হোক। শিক্ষার্থীদের দেশের শক্তি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সৎভাবে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

 

নতুন সাইকেল পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জামশেদের মধ্যেও। তিনি বলেন, ‘সাইকেলটি চুরি হওয়ার পর খুব সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। নতুন সাইকেল কেনার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যার আমার সমস্যার কথা শুনে পছন্দমতো একটি সাইকেল কিনে দিয়েছেন। এখন আবার কাজ করতে পারব, পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারব। জামশেদের কাছে নতুন সাইকেলটি শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পরিবারের জীবিকা ও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ। সাইকেলটি পাওয়ার পর এখন আবার ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজে ফিরতে পারবেন জামশেদ। পরীক্ষার ফাঁকে সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে তাঁকে আবার ছুটতে হবে এক ঠিকানা থেকে আরেক ঠিকানায়। সেই ছুটে চলার মধ্যেই চলবে তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইও।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।