খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ধামইরহাটে গভীর রাতে বিকট শব্দে আতঙ্ক, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিএনপির

মোঃ সহিদুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
ধামইরহাটে গভীর রাতে বিকট শব্দে আতঙ্ক, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিএনপির

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গভীর রাতে বিকট শব্দে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখভাগে এ ঘটনা ঘটে। নিঝুম রাতের নীরবতা ভেঙে আকস্মিক এই বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ভীতির সঞ্চার হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রাতে পুরো বাজার এলাকা জনশূন্য ছিল এবং প্রতিদিনের মতো দলীয় কার্যালয়ও বন্ধ ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ দলীয় কার্যালয়ের সামনের অংশ লক্ষ্য করে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ জাতীয় ঘটনা ঘটে। শব্দের তীব্রতায় আশেপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে গভীর রাত হওয়ায় ওই মুহূর্তে রাস্তায় কোনো পথচারী না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হানজালা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
একই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির মিল্টন বলেন, “এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করতেই এই অরাজকতা চালানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক কর্মসূচি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনায় বাজার নাইট গার্ড (নৈশপ্রহরী) হারুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি একটি পটকা ফোটানোর বিষয় ছিল। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।