খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাজশাহী থেকে জাপানে যাচ্ছে দক্ষ জনশক্তি, আসছে,জাপানি বিনিয়োগ

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহী থেকে জাপানে যাচ্ছে দক্ষ জনশক্তি, আসছে,জাপানি বিনিয়োগ

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জাপানি প্রতিনিধিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাসিক প্রশাসক।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর দক্ষ জনশক্তিকে জাপানের বিভিন্ন খাতে নিয়োগ, ম্যাংগো প্রক্রিয়াজাতকরণ,কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা,জাপানি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট স্থাপন,তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া রাজশাহী সিটির সঙ্গে জাপানের কোনো শহরের সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সভায় রাসিক প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ও প্রচলিত আইন-বিধি অনুসরণ করে জাপানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী রাসিক।

এসময় রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,রাজশাহী একটি সম্ভাবনাময় নগরী। শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজশাহীতে বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

জাপানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন – জাপান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাওয়ামোতো ইয়াসুহিরো,জেনারেল ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন হামিংবার্ডের রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর ইউতা শিগেমোরি,ওয়েস্ট ওকায়ামা মেডিকেল ক্লিনিকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হ্যান্ডসন ল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেইজি ইশিমোতো এবং ওকায়ামা বিজনেস কলেজ ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্টের মোঃজিয়াউল করিম। এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা,এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম,প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃমামুন,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুন একই বিষয়ে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রাজশাহী থেকে জাপানে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপানি প্রতিনিধি দলটি।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।