খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কুলাউড়ায় গভীর রাতে ওয়ানটেন ও অনলাইন ক্যাসিনোর আসর, মাদক সেবনের অভিযোগ

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
কুলাউড়ায় গভীর রাতে ওয়ানটেন ও অনলাইন ক্যাসিনোর আসর, মাদক সেবনের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ছাপলা শরীফপুর ইটাখলা এলাকায় গভীর রাতে ওয়ানটেন ও অনলাইন ক্যাসিনোর আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত একটি বাড়ির উঠানে ত্রিপাল টানিয়ে মোবাইল ও অন্যান্য সরঞ্জামের মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদক সেবনেরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শায়েস্তাগঞ্জের সুরুজ আলী ও মৌলভীবাজারের আব্দুল মুকিতের নেতৃত্বে এসব জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে আব্দুল মুকিতকে জুয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে জড়িত মূলহোতা হিসেবে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, নোহা ও সিএনজিযোগে জুয়াড়িরা ওই এলাকায় আসেন। তাদের যানবাহন ছাপলা চেকপোস্টের কাছাকাছি সড়কের পাশে রাখা হয়। পরে রাত গভীর হলে তারা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে জুয়ার আসরে অংশ নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলায় স্থানীয় যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং জুয়ার আসর বন্ধে কার্যকর অভিযান দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একবার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগেও বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা আগেই সরে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। অচিরেই তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, একই অঞ্চলের আরেকটি ঘটনায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ চুরি ও পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বন বিভাগের সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় বন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বিরল প্রজাতির গাছ ও সেগুন গাছ কেটে পাচার এবং চোরাই কাঠ কেনাবেচার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জেলা এনএসআইয়ের একটি গোপনীয় প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গাছ চুরির ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিক মিয়া মহালদার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়া, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান এবং মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া চোরাই কাঠ কেনার অভিযোগে বেলাল, জমরুত ও সোহেলকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচারের ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি চক্র রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ির মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ পাচার করে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বনাঞ্চলে অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত নজরদারি, বন বিভাগের কার্যকর তৎপরতা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।