খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

খাদ্যগুদামে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী  

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদামে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী  

বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের কোনো খাদ্যগুদামে অনিয়ম পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলার খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করা হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর  প্রয়াত পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মরণে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে সরকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। খাদ্য নিরাপদ না হলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। তাই খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই আমার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ।

দেশের খাদ্যগুদামগুলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি খাদ্যগুদামে অনিয়মের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যেকোনো দুর্যোগ বা সংকট মোকাবিলায় যেন খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখা হচ্ছে। খাদ্য মজুদের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও সার বিতরণে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকতে পারে।

কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট নৌরুটে ওয়াই-প্যাটার্নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর বিষয়ে দেশবাসীকে জানানো হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমি চেষ্টা করব দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করতে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে। বিগত দিনে বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালেও আমার সমস্ত মেধা ও সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌসী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার মো. নূর হোসেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মিজ রওশন আরা, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মাখন, ড্যাবের মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি ডা. জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ডা. বদরুল আলম চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে খাদ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম থেকে জাগীর-মেঘশিমুল পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তার উদ্বোধন করেন। পরে মুন্নু ক্যাফেটেরিয়ার সভাকক্ষে ব্যুরো অব সোশ্যাল ওয়াচ আয়োজিত ‘পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

সেমিনারে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে কোনো উদ্যোগ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি মানিকগঞ্জের নদ-নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

 

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।