খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কাপ্তাইয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশন করবে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
কাপ্তাইয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশন করবে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্। শনিবার ( ২৯ আগষ্ট ) রাত ১০টার দিকে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করার কথা রয়েছে। বিষয়টি কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাত ১০টা নাগাদ স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্পিলওয়ের গেট খুলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া হবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) ও বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা ও ইনফ্লোর তারতম্যের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ের গেট খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। ইনফ্লো বেড়ে গেলে পর্যায়ক্রমে গেট খোলার পরিমাণও বাড়ানো হবে। এর আগে গত ১৮ জুলাই কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খুলে হ্রদের পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে ফের হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় নতুন করে জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি নিষ্কাশনের কারণে কর্ণফুলী নদীতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তবে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।