খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি-চট্টগ্রাম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নগরের বারিক বিল্ডিং মোড়ে সমাবেশ শেষে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সংগঠনটি বলেছে, বন্দর দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই দুই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া যাবে না।সমাবেশ থেকে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বন্দর অভিমুখে এগিয়ে যান। এ সময় তারা এনসিটি ও সিসিটি ইজারা বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটি-চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে হতে পারে না। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

 

 

কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংযোজন ও দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।তিনি আরও বলেন, এনসিটি ও সিসিটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও চাকরির নিরাপত্তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, এনসিটি দেশের বিনিয়োগে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল। এটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, এনসিটি ও সিসিটি ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। একটি কুচক্রী মহল পুরো হাঁসটিই খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে। দেশের স্বার্থে কোনোভাবেই এ ধরনের উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।তিনি বলেন, এত দিন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাই বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই সরকারকে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।