খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে ঝুকিপূর্ণ সেতু ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে ঝুকিপূর্ণ সেতু ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর পাইকপাড়া সংলগ্ন ব্রিজটি এখন ১০ গ্রামের মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সামান্য ভারী যানবাহন উঠলেই পুরো ব্রিজ থরথর করে কেঁপে ওঠে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ব্রিজের দুই পাশের রেলিংয়ের ৫০% অংশ ভেঙে পানিতে ঝুলে আছে। পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ঢালাই খসে পড়েছে। পিলারের গায়ের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। মাঝখানে ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে গেছে।
অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রিজের এক পাশে একটি ভ্যান উঠলে অপর পাশের যানবাহনকে ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ব্রিজ এতটাই সরু যে দুইটি ভ্যান পাশাপাশি চলাচল করতে পারে না।এই ব্রিজ দিয়েই চলাচল করে রশিদপুর, গোবিন্দপুর, কোটবাড়ি, কাঞ্চনপুর, পাইকপাড়া, সাতকোড়া, ডুলসমুদ্র, বড়ইবাড়ি সহ ১০ গ্রামের মানুষ।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ব্রিজের দুই পাশে ১টি হাইস্কুল ও ২টি প্রাইমারি স্কুল। প্রতিদিন হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এই নড়বড়ে ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যায়। অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন। গত বর্ষায় এক ছাত্র পানিতে পড়ে রক্ষা পায়।
কৃষকদের ক্ষতি -হাটের দিনে কৃষকরা কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজারে যান। ব্রিজের কারণে গাড়ি উল্টে প্রতি হাটে হাজারো টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা- ব্রিজটি ভেঙে পড়লে ১০ গ্রামের মানুষের সাথে উপজেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসও ঢুকতে পারবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন,৩০ বছর ধরে এই ব্রিজের বয়স। মেরামত হয় না। বর্ষায় পানি বাড়লে নিচ দিয়ে যাওয়াও যায় না, উপর দিয়েও যাওয়া যায় না। আমাদের কপালটাই খারাপ।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো.মাকসুদুন্নবী ইনকিলাবকে বলেন,বড় গোবিন্দপুর ব্রিজটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি টাইম বোমার মতো। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।
তিনি আরও বলেন,এই ব্রিজ দিয়ে ১০টি গ্রামের ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করে। এখানে ১টি হাইস্কুল ও ২টি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্ররা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য নকশার প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই আমরা দ্রুত টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করব। তবে বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত আমি এলাকাবাসীকে অনুরোধ করব, ভারী যানবাহন এই ব্রিজ দিয়ে না চালাতে।
বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন,আমি কালিয়াকৈরের মানুষের এই দুর্ভোগের কথা জানি। বড় গোবিন্দপুর ব্রিজটি এখন মৃত্যুফাঁদ হয়ে গেছে। আমাদের সন্তানরা, কৃষকরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।তিনি বলেন,আমি এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে কথা বলে এই ব্রিজের জন্য জরুরি বরাদ্দের ব্যবস্থাকরব। প্রকল্প যেহেতু পাঠানো হয়েছে, এখন দ্রুত অনুমোদন করিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে ব্রিজটি পরিদর্শন করব। কালিয়াকৈরের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আর একদিনও মানুষকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসীর ৩ দফা দাবি-অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প বেইলি ব্রিজ স্থাপন।
দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও কাজ শুরু।বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ।
রেলিং নেই, পাটাতন ভাঙা, তবুও প্রতিদিন শত শত শিশু-কৃষক এই ব্রিজ পার হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী নিজেই যখনটাইম বোমা”বলছেন, এমপি যখন জরুরি বরাদ্দ”এর আশ্বাস দিচ্ছেন, তখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি বরাদ্দ আসবে ।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।