খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় অবৈদ গ্যাস সংযোগে চলা চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিলো উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দুই প্রতিষ্ঠান কে অর্থ দন্ড

গজারিয়া(মুন্সীগঞ্জ)প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় অবৈদ গ্যাস সংযোগে চলা চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিলো উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দুই প্রতিষ্ঠান কে অর্থ দন্ড

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দিতে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে গজারিয়া উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অবৈধ কাজে সহযোগিতা করায় জমির মালিকের নামে নিয়মিত মামলা ও বিদুৎ সংযোগ প্রদান করায় আইমা এলপিজি পাম্প কে ৫০ হাজার, ড্রাইভার হোটেলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়া এর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই চুনা কারখানাট গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়,গত কয়েক মাস যাবৎ এই কারখানায় বিশাল আকৃতির চুল্লিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ মাধ্যমে গ্যাস ও কাঠ জ্বালিয়ে চুনা পাথর পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছিল চুন। এর আগে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার কারখানাটিতে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়া। সে সময় কারখানাটি বন্ধ করে দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে এর দুইদিন পর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় তাদের কার্যক্রম চালু করলে বৃহস্পতিবার আবার সেখানে অভিযান চালানো হলো।

এ বিষয়ে নির্বাহী অফিসার উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন,এই কারখানায় গত ক’দিন আগে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, পূর্ণরায় চালু করায় জমির মালিকের নামে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে,এছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সহায়তা করায় আইমা এলপিজি ফিলিং স্টেশন,ড্রাইভার হোটেল এর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানোয়ার হোসেন। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ গজারিয়া জোনের এর এজিএম আসিফ মোস্তফার।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ মিয়া নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স দুটি ইউনিট।
গজারিয়া থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক আব্দুল হাদীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।