খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে সমাজে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার ( ২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন এই ধরনের অস্থিরতার মাধ্যমে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস করতে না পারে। একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবিলা করব। অন্যদিকে আইনগত যে ব্যবস্থাটুকু নেওয়া দরকার, জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা সজাগ ও সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, বলেন তিনি।

 

 

চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আজকের মিটিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জেলার আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে কোথায় চুরি, কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও চলাফেরা করতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।আমরা খুব শক্তভাবে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সাধারণ মানুষ যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং করব, বলেন এ্যানি। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ছাড়াও পাহাড় কাটা এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়গুলোও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে কিছু কঠিন কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। জনস্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন সংক্রান্ত কিছু বিশেষ কাজ রয়েছে। অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করেছি, এসব কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়। সেসব দিকেও বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা প্রত্যেকটা বিষয়কে প্রায়োরিটি দিচ্ছি। যেখানে যেটা দরকার, তাৎক্ষণিকভাবে সেটাকে অ্যাড্রেস করা, সমন্বয় করা ও সমাধান করার দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।

 

 

চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, এই জেলাটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর একটি চট্টগ্রাম। সরকারের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন, সকল দিক বিবেচনা করে আমরা পদক্ষেপগুলো এমনভাবে গ্রহণ করব, যেন এই সিটিতে, এই জেলায় মানুষ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন।সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আইন প্রণয়ন ও আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, খুব রিসেন্টলি দেখেছেন, পার্লামেন্টেও আপনারা দেখেছেন, অনেক বিষয়ে নতুন আইন হয়েছে, আইন সংশোধন হয়েছে। ১৭ বছরের ট্রেন্ড ইচ্ছা করলে ১৭ দিনে অথবা ১৭ মাসেই পুরোপুরিভাবে শেষ করে দেওয়া যাবে-এ কথা আমি বলব না। তবে আমাদের মহৎ উদ্যোগ রয়েছে। আমরা খুব দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম সিটির আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।