খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শ্রীপুরে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আফরোজা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির বিক্ষোভ

পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে টেংরা বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি টেংরা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমীন আকন্দের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ বন্ধুকশির সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেহ উদ্দিন মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু জাফর সরকার, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান রমজান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জুয়েল, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পলাশ, শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক অপু হোসেন মোল্লা, বিএনপি নেতা আরিফ বন্ধুকশিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, শ্রীপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য প্রতিরোধে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।