খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গজারিয়ায় নিউ হোপ কোম্পানি থেকে  শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় নিউ হোপ কোম্পানি থেকে  শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিউ হোপ কোম্পানি থেকে এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ।

রবিবার(২৭ সেপ্টেম্বর)ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন এর শান্তি নগর এলাকায় নিউ হোপ কোম্পানি’র পিপি স্টোর রুমে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ঐ ব্যক্তির নাম মো:বিল্লাল হোসেন(৬০),তিনি
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর চাঁদগাঁও গ্রামের মৃত ফজলু বেপারীর ছেলে। তিনি নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট কামাল হোসেন নামে প্রোডাকশন বিভাগে দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ শ্রমিক হিসেবে করতেন।

নিহতের মেয়ের জামাই আবু মুসা বলেন,ঘটনা ভোর রাতে হলেও আমরা প্রথমে জানতে পারি তিনি অসুস্থ। দ্রুত আসার জন্য পরে আবার জানায় স্ট্রোক করছে। এসে শুনি তাঁর লাশ একটা গাড়িতে করে গেটের বাহিরে নিয়ে যেতে চাইছে। ঘটনাস্থলে প্রথমে আমাদের যেতে দেওয়া হয় নাই,দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা পর আমাদের কাছে আপোষ করার প্রস্থাব আসে

নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন,আমার স্বামীর মৃত্যুটা সন্দেহজনক,তাঁর কানের দুই পাশেই কাঁটা, মাথায় গুরুতর জখম এর চিহ্ন আছে,১৫দিন আগেও স্টোর এর ম্যানেজার ও তাঁর ভাই আমার স্বামীকে বকাঝকা করেছে,পুলিশ ও সাংবাদিকরা আসার আগে তাঁরা এটা সমঝোতা করার চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে নিউ হোপ কোম্পানির প্রোডাকশন এর এজিএম সালউদ্দিন বলেন  এর নিহত শ্রমিক দৈনিক হাজিরা দীর্ঘ দিন যাবৎ কাজ করেন,স্টোর রুমে অসাবধান বশত ফর্কলিফট গাড়ীর দূর্ঘটনার এই ঘটনা ঘটে। তিনি আমাদের কম্পানির প্রডাকশনের কামাল হোসেন এর গ্রুপে কাজ করতেন।

বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন বলেন,খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করি,যেটুকু জেনেছি ঐ শ্রমিক এখানে দৈনিক হাজিরায় একজন ঠিকাদারের কাজ করতো, আমরা ঘটনাস্থলের ফুটেজ দেখেছি।
ইতিমধ্যে মরদেহ সুরতহাল শেষ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।