খুঁজুন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রবাসী অধ্যুষিত ও পর্যটনসমৃদ্ধ সিলেটে নতুন শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

(শনিবার) সিলেটের কুশিয়ারা কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কোন কোন খাতে নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে তোলা যায় এবং কীভাবে সেসব খাতকে সম্প্রসারণ করা যায়, তা ব্যবসায়ীদের সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এলে শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। শুধু সভা-সমাবেশ নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নেতৃত্ব তৈরি হলে ব্যবসায়ীদের প্রকৃত স্বার্থ ও প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, সিলেট রাজনৈতিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর। এ কারণে এখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মেলা ও বাণিজ্যিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন আয়োজন হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সমাজকর্মী ও নারী উদ্যোক্তা শামা হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম জালালি পংকী, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচনসহ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।