খুঁজুন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট বিভাগের বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শনিবা) সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের হলরুমে সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বিচারকদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে Monitoring Committee for Subordinate Courts-এর সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তারা তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সিলেট বিভাগের চার জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।