খুঁজুন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

সিলেটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পিছিয়ে পড়া মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সিলেটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পিছিয়ে পড়া মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট বিভাগের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকার কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই; প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব, শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।

(শনিবার) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুণগত শিক্ষার প্রসার’ শীর্ষক সেমিনার এবং সিলেট বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ উভয় জনপদেই জাতীয় গড়ের তুলনায় সিলেটের অবস্থান নিচে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতার ক্ষেত্রেও এ পিছিয়ে থাকা দৃশ্যমান। সিলেটের মানুষের সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের মানুষ নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে এ অঞ্চলের পিছিয়ে থাকার কারণ মেধার ঘাটতি নয়; বরং অবকাঠামোগত সমস্যা, নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অন্যান্য কাঠামোগত কারণ এর সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের রিডিং, নিউমেরেসি ও মৌলিক বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকসংখ্যা, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাঠামোগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত খাবার না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

সিলেটে কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে সিলেটে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিলেটে অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যা এ অঞ্চলের সম্ভাবনার প্রমাণ। উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমস্যার সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যারও যোগসূত্র রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে কিছু পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এ ধরনের সামাজিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সিলেটকে এ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে কার্যকর ও শক্তিশালী নেতৃত্বের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অজন্তা শুক্লার সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী,
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, দি এইডেড হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মীর রেজা এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্ষা দে এনি। অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।