খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডিমলায় গাছের গায়ে ‘আল্লাহ’ নামের মতো আকৃতি, দেখতে ভিড়

​আমীর হামজা সোহেল
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
ডিমলায় গাছের গায়ে ‘আল্লাহ’ নামের মতো আকৃতি, দেখতে ভিড়

নীলফামারীর ডিমলায় কয়েকটি কাঁঠালগাছের মূল গায়ে অস্বাভাবিক কিছু আকৃতির দাগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সেখানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গাছের গায়ে থাকা এসব দাগ দেখতে অনেকটা আরবি ‘আল্লাহ’ শব্দের ক্যালিগ্রাফির মতো হওয়ায় এই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​স্থানীয়দের ভাষ্য, ডিমলা উপজেলার সরদারহাটের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে একটি গোডাউনের পাশে থাকা কয়েকটি কাঁঠালগাছের মূল গায়ে এসব আকৃতি দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি কয়েকজনের নজরে আসে। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ একনজর দেখতে সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন।

​স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গাছের গায়ে থাকা আকৃতিগুলো দেখতে স্পষ্টভাবে ‘আল্লাহ’ নামের মতো মনে হচ্ছে। তারা এটিকে আল্লাহর নিদর্শন বলে মনে করছেন।

​এ বিষয়ে উপজেলা প্রশিক্ষক, আনসার ও ভিডিপি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গাছের গায়ে এমন আকৃতি দেখা যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি দেখতে অনেক মানুষ সেখানে আসছেন। আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

​তবে গাছের গায়ে থাকা এসব দাগ কীভাবে তৈরি হয়েছে বা এর প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া এটিকে অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মীয় নিদর্শন হিসেবে নিশ্চিত করার সুযোগ নেই বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

​এদিকে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় গাছগুলো দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে সেখানে ছুটে আসছেন।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস