খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

যশোরের সতীঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

মোঃ শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
যশোরের সতীঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। পরে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে করে তাকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সতীঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাছুদুর রহমান শামীম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আঞ্জুরুল হক খোকন ও রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবলু, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজ মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও অবসরজীবনের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস