খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাঘারপাড়ার (খাজুরা)কে উপজেলা করার ঘোষনা’ —(এমপি) গোলাম রসুলের

শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
বাঘারপাড়ার (খাজুরা)কে উপজেলা করার ঘোষনা’ —(এমপি) গোলাম রসুলের

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র খাজুরা অঞ্চলকে একটি উপজেলায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন যশোর ৮৮-৪: আসনের এমপি অধ্যাপক মোঃ গোলাম রসুল । সম্প্রতি বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন । এসময় তিনি বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বাজারে সব ধরনের চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই ও দুর্নীতি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পাশাপাশি খাজুরা এলাকা কে একটি উপজেলা করার কথা ব্যাক্ত করেন।
বুধবার বিকেলে খাজুরা বাজারের ‘আমিন প্লাজা’য় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক সুধী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি গোলাম রসুল বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সার্বিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় খাজুরা অঞ্চলটি একটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট হওয়ার পূর্ণ যুক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, খাজুরা কে উপজেলা, থানা অথবা পৌরসভায় উন্নীত করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ”
সভায় নিজের বিগত ৬-৭ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা ইটের সলিং রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল ও কলেজের জন্য প্রায় ১.৫ থেকে ২.৮০ কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রদান করেছি, যা সামনে আরও আসবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের জন্য ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ বা ১ কোটি টাকার বরাদ্দ, রাস্তাঘাট বা দলীয় ডিলারশিপ—কোনো ক্ষেত্রেই এমপি গোলাম রসুল কারও কাছ থেকে এক টাকা অনুদান বা ঘুষ নেয়নি। কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে টাকার বিনিময় সুবিধা নিতে হয়নি, সম্পূর্ণ সুপারিশ ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বরাদ্দ এসেছে।”
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এমপি বলেন, “এমপিদের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোক বাজারে বা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দাবি করে। আমার স্পষ্ট কথা—সার্টিফিকেটধারী কোনো চাঁদাবাজ বা অবৈধ সুবিধাভোগী থাকবে না। বাজারে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে আমি সার্বিক সহযোগিতা করব।” এছাড়া,
নিজের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এমপি হলেই পকেটে কোটি কোটি টাকা—মানুষের এই ধারণা ভুল। সরকারি নির্ধারিত ভাতা থেকেই আমার তেলের খরচ, গাড়ি মেইনটেনেন্স এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সাহায্য দিতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে এমপি হওয়ার আগে যে আর্থিক অবস্থায় ছিলাম, বর্তমানে তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে আছি।”
অনুষ্ঠানে,
আমিন প্লাজার সত্ত্বাধিকারী ও চন্ডিপুর মাদরাসার সুপার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং তরুণ ব্যবসায়ী এবি মুন্তাসিরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,
মুফতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম (ইমাম, খাজুরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ)
শিহাবুর রহমান (মুদি ব্যবসায়ী)
কার্তিক মণ্ডল (ব্যবসায়ী)
মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার (পুরোহিত, খাজুরা কেন্দ্রীয় বৈদিক কালিবাড়ি মন্দির)
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ড্রেনেজ সমস্যা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানালে সংসদ সদস্য তা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
তিন জীবন সংগ্রামী ব্যক্তির ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ।

১৪ অক্টোবর বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

এ সময় তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজের শিক্ষকতা ও শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন নায়লা।

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আলতাফের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের অনুপ্রেরণার উৎস পরিবেশ ও প্রকৃতি। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে তিনজনের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস