শৈলকুপা পৌরসভার সেবায় নিজেকে সমর্পণ করতে চান মিজানুর রহমান
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপদ ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা। নব্বইয়ের দশকের প্রথমভাগে গঠিত এই পৌরসভাটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাঙ্ক্ষিত নগর আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্নীতিমুক্ত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে পৌরবাসী আজও একটি টেকসই নেতৃত্বের সন্ধান করছেন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের এই রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, জনবান্ধব ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ মিজানুর রহমান বাবলু।
শৈলকুপার সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে তরুণ ও যুবসমাজের মুখে মুখে এখন একটাই কথা” পরীক্ষিত leadership, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিজানুর রহমান বাবলুর বিকল্প নেই। মিজানুর রহমান বাবলু রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কোনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নাম নন। শৈলকুপার মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। বিগত রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বহু রাজনৈতিক মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের মুখোমুখি হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একা ফেলে তিনি কখনো রাজপথ ছাড়েননি।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি কেবল দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেননি, বরং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যেকোনো সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শৈলকুপা পৌরসভার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন মেয়রের কাছে তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সহজলভ্য সেবা। মিজানুর রহমান বাবলুর বিগত দিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে কয়েকটি দিক দৃশ্যমান হয়, যা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে:
দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ভাবমূর্তি,শৈলকুপার রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অর্থনৈতিক অনিয়ম বা অনৈতিকতার দাগ নেই। সততা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। সামাজিক ও মানবিক কাজে অবদান, করোনাকালীন সংকট, প্লাবন কিংবা সামাজিক নানা দুর্যোগে তিনি সাধ্যমতো সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের দুয়ারে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। তৃণমূলের সাথে সুনিবিড় যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত উঠান বৈঠক, চা-চক্র এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শোনার সংস্কৃতি তিনি গড়ে তুলেছেন। তরুণ ও প্রবীণদের মেলবন্ধন, রাজনীতিতে তিনি প্রবীণদের শ্রদ্ধা ও তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখান।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মিজানুর রহমান বাবলু শৈলকুপা পৌরসভাকে একটি ‘স্মার্ট ও বাসযোগ্য নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, দল যদি তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয় এবং শৈলকুপার জনগণ ভোটে জয়যুক্ত করে, তবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার হবে:
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত পৌর ভবন, পৌরসভাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা এবং শতভাগ নাগরিক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করা। শৈলকুপা শহরের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা দূর করতে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আধুনিক রাস্তা সংস্কার। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ শৈলকুপা, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা।
সচ্ছল ও জবাবদিহিমূলক নাগরিক সুবিধা, পানীয় জলের সুব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং ট্যাক্স না বাড়িয়ে নাগরিক সুবিধার পরিধি বাড়ানো।
শৈলকুপার স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বর্ষীয়ান প্রবীণদের মতে, পৌরসভা পরিচালনায় এমন একজন মানুষের প্রয়োজন যিনি ক্ষমতাকে ভোগ-বিলাসের মাধ্যম না ভেবে জনগণের সেবা হিসেবে গ্রহণ করবেন। মিজানুর রহমান বাবলু রাজনৈতিকভাবে যেমন পরীক্ষিত, তেমনি সামাজিকভাবেও একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি নির্বাচিত হলে শৈলকুপা পৌরসভা একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিজানুর রহমান বাবলুর বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। শৈলকুপার মানুষের ভালোবাসাই আমার মূল চালিকাশক্তি। অবহেলিত এই পৌরসভাকে অনিয়ম ও দুর্গন্ধমুক্ত করে একটি সুন্দর, শান্তিময় ও আধুনিক বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আমি পৌরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করি।
আসন্ন শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের যে হাওয়ায় ধানের শীষের গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিজানুর রহমান বাবলু। রাজপথের অভিজ্ঞতা, সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা দিয়েই তিনি জয় করে নিয়েছেন শৈলকুপাবাসীর অন্তর। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা শৈলকুপার নাগরিকরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবককে পৌর ভবনে বসিয়ে নতুন এক ভোরের সূচনা করবেন।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]