খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সুস্থ হয়ে উঠছেন খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সুস্থ হয়ে উঠছেন খালেদা জিয়া
দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরের বেশি সময় পর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বড় ছেলে তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে যেন মানসিক প্রশান্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক নেতা জানান, তখনই মনে হয়েছিল, দীর্ঘ সফরে একটুও ক্লান্ত নন সাবেক তিন বারের এই প্রধানমন্ত্রী। দুই পুত্রবধূ ছাড়াও তিন নাতনিকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে বেশ প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে।   দীর্ঘদিন ধরেই লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। লন্ডনে আসা তার একাধিক সফরসঙ্গী জানান, এখানে আসার এক সপ্তাহেই খালেদা জিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক সুস্থবোধ করছেন।  হিথ্রো বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের দেখতে পেয়ে মুহূর্তেই মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্য পাচ্ছেন। নাতনিদের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই গল্পও করছেন তিনি। পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানের রান্না করা খাবার তারেক রহমান নিজেই প্রতিদিন বহন করে নিয়ে আসছেন। কার্যত, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানই খালেদা জিয়ার সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’ এ চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্যাট্রিক ক্যানেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নেফরোলজি, হেপাটোলজি, গ্যাস্টোলজি ও লিভার ট্রান্সপ্রান্টসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনই তার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। কিছু কিছু পরীক্ষার বায়োকেমিক্যাল টেস্টও করানো হয়। বাংলাদেশে তার যে চিকিৎসা চলছিল সেটারও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফিজিও থেরাপিস্টরা প্রতিদিনই কাজ করছেন। এ দিকে প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে গণমাধ্যমের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের ভিড় বাড়ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা তার পরিবারের সদস্যরা আসার সঙ্গে সঙ্গেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও তারেক রহমান তার অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া ছাড়া অন্য কিছুই গণমাধ্যমে কিছুই বলছেন না। ভিড় এড়াতে মাঝেমধ্যে তারেক রহমানকে হাসপাতালের পেছনের গেট দিয়েও প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদকেও তার সঙ্গে দেখা যায়। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা কামাল আহমেদকেও দেখা যায় তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে।এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্র্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তারাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে হাসপাতালে এসে দেখা করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।  বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, লন্ডনের এই হাসপাতালে নতুন করে বেশ কিছু টেস্ট করানো হয়েছে। কিছু টেস্টের রেজাল্ট এসেছে। কিছু টেস্টের রেজাল্ট শুক্রবারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। পরীক্ষার ফলাফলের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়া দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালেক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসিখুশি আছেন। তিনি হাঁটাচলা করছেন। তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। 

তিনি আরও জানান, সারা দিন তারেক রহমান হাসপাতালে ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জায়মা রহমানসহ পরিবারের সবাই হাসপাতালে আছেন। পরিবারের সঙ্গে খালেদা জিয়া খুবই ভালো সময় কাটছে। এ দিকে যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার যেসব রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে, তার সবই এই হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সম্ভব। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বা অন্য কোনো দেশে নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ জানুয়ারি সকালে খালেদা জিয়া লন্ডনে আসেন। ওই দিনই তাকে লন্ডনের বিশেষায়িত লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পটে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় নগরীর সাগরিকা মোড় সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এ কথা জানান। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীও দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস নগরবাসীকে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় সবসময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।