খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগে যত চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগে যত চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে এই বিনিয়োগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সৌদি-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘সৌদি-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: প্রবণতা, মূল চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা’ -শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, আতিথেয়তা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সে কারণে সম্মত হওয়া বেশ কয়েকটি প্রকল্পেরও খুব বেশি অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন হয়নি।

 

বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে— সময়মতো জমি বরাদ্দ না পাওয়া, সহায়ক অবকাঠামোর অভাব, বিনিয়োগে জটিল প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিষেবা পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব। অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে— ইতিবাচক বিনিয়োগ নীতি ও ব্যবসায়িক বিধিবিধানের অভাব, পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব, জটিল বাণিজ্য ও শুল্ক পদ্ধতি এবং  বিনিয়োগবান্ধব কর পরিবেশের অভাব। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ আরও সহজ করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে পলিসি এক্সচেঞ্জ। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— বাণিজ্য ও বিনিয়োগের দায়িত্বে থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বা মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা, অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো  যৌথভাবে চিহ্নিত করা, প্রকল্প উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে নীতি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া।  আরও রয়েছে, জমি বরাদ্দের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করার পাশাপাশি  বিলম্ব কমাতে নির্দিষ্ট অনুমোদন ও পরিষেবাগুলোকে আরও সহজতর করা, জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নিয়মিত সভা ও সংলাপ সহজ করা। পলিসি এক্সচেঞ্জ নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বা প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী কর ছাড় দেওয়া, সৌদি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য কোন প্রণোদনা সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা চিহ্নিত করা এবং বিনিয়োগ নীতি ও ব্যবসায়িক নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা এবং সহজ করার সুপারিশ করেছে।

 

বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে জানতে চাইলে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এবং সিইও এম মাসরুর রিয়াজ বাংলানিউজকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আরও ব্যাপক সম্ভাবনা আছে, সেটা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদের দিক থেকে হতে পারে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়াও আছে। তবে আমাদের দেশ থেকে যেসব পণ্য সৌদিতে রপ্তানি হয়, সেসব পণ্য রপ্তানির আরও সুযোগ আছে। সেজন্য সৌদি বাজারকে আরও ভালোভাবে আমাদের বুঝতে হবে। মাসরুর রিয়াজ বলেন, সৌদি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের এখানে বিনিয়োগে কোথায় কোথায় সমস্যা, সেটা চিহ্নিত করে সামনের দিকে এগোতে হবে। বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজীকরণে আমাদের নজর দিতে হবে। আমরা যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছি, সেখানে অনেক সমস্যা চিহ্নিত করা আছে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। জানুয়ারির শুরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলান জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরব বহুমুখী সম্পর্ক গড়তে চায়। তিনি জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশে সৌদির বিভিন্ন কোম্পানিকে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি, আমাদের দেশ সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সবসময় সত্যি নয়। বর্তমান সরকার অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আমরা ব্যবসা সহজ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস