খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

অনুমোদনহীন-নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সিডিএ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অনুমোদনহীন-নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সিডিএ

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকায় অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এবার অনুমোদনহীন এসব ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এজন্য টিম গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই শুরু হবে অভিযান। সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুনের পর থেকে নগরে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন অনেকগুলো ভবন গড়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে ভবন নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ উঠায় অভিযানে নামছে সিডিএ। অভিযান জোরদার করতে সিডিএর দুই অফিসারের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে দুটি ভিজিল্যান্স টিম। ইতিমধ্যে একটি টিম মাঠে নামলেও অপরটি আগামী সপ্তাহের শুরুতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সিডিএ। তবে এখনও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়নি। টিমগুলো সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এসব তথ্য জানিয়েছেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত নগর গড়তে নকশাবহির্ভূত ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদনহীন এবং নকশাবহির্ভূত ভবন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিডিএর দুই অফিসারকে প্রধান করে দুটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। একটি টিম কাজ শুরু করেছে। অপরটিও শুরু করবে। সিডিএর গঠিত একটি ভিজিল্যান্স টিমের প্রধান মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘গঠিত দুটি ভিজিল্যান্স টিমের মধ্যে একটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমাদের টিম আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে কাজ শুরু করবে। এজন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি, সমন্বয় করে কাজ করবো আমরা।

 

নগরে কোনও ভবন কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সিডিএ থেকে অনুমোদন নিতে হয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘কেউ কেউ এ নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো স্থাপনা তৈরি করেছেন। আবার কেউ নকশার অনুমোদন নিয়েছেন একরকম, ভবন নির্মাণ করেছেন ভিন্ন। এসব নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো আমরা। গত কয়েক মাসে কতটি এমন ভবন তৈরি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে তালিকা আমরা এখনও করিনি। সরেজমিনে মাঠে গিয়ে তালিকা তৈরি করলে বোঝা যাবে, নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন কতটি ভবন আছে। নগরে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন কতটি ভবন আছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, ‘সেটি তালিকা দেখে বলতে হবে। তবে পরিকল্পিত নগর গড়তে অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন অপসারণের বিকল্প নেই। নানা কারণে গত কয়েক মাস অবৈধ এবং নকশাবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। যাতে নতুন করে কেউ নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করতে না পারে। যেগেুলো হয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

 

সিডিএ জানিয়েছে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরুর বা স্থগিত কাজ শুরুর ১৫ দিন আগে সিডিএকে জানানোর কথা থাকলেও তা করেন না অধিকাংশ ভবন মালিক। সিডিএর বোর্ড সদস্য স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিগত সময়ে চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণে নিয়ম মানা হয়নি। এভাবে চলতে দেওয়া উচিত নয়। এখন সব কিছু নিয়মের মধ্যে আসা উচিত।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।