খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কী আছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১:১৮ অপরাহ্ণ
কী আছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে?

একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। একইসঙ্গে সংবিধানের বিদ্যমান প্রস্তাবনার ভাষ্যকে পরিবর্তন করে পুনঃপ্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবনার সেই ভাষ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ করার সুপারিশ জমা দিয়েছে কমিশন। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ ও ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো থাকছে। ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি’ এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) সংশোধন করে ‘বাংলাদেশের নাগরিকরা বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবেন’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের জন্য বলেছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে তিনটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। সেই সঙ্গে গণতন্ত্র বহাল রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন আরও চারটি মূলনীতির সুপারিশ করেছে তারা। শনিবার (৮ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে সংবিধান সংস্কার কমিশনের (প্রথম খণ্ড) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগে ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় সংবিধান সংস্কার কমিশন।

গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গঠন করা হয় নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশন। সংবিধান সংস্কার কমিশনে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজকে প্রধান করা হয়। বর্তমানে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার যে চার মূলনীতি রয়েছে সেগুলো হলো, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই চার মূলনীতির মধ্যে শুধু গণতন্ত্রকে প্রস্তাবিত নতুন পাঁচ মূলনীতির একটি হিসেবে রাখা হয়েছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ করা নতুন পাঁচটি মূলনীতি হলো, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ এর ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদী আন্দোলনের আদর্শকে সামনে রেখে কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আমরা জনগণের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রকে সংবিধানের মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করে জনগণের জন্য একটি সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করছি। যে সংবিধান বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ এবং যে সংবিধান স্বাধীন সত্তায় যৌথ জাতীয় বিকাশ সুনিশ্চিত করবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষণ করবে।

কমিশন অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কেও সুপারিশ করেছে। তারা বলেছে, আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করছে। এই সরকারের প্রধান ‘প্রধান উপদেষ্টা’ বলে অভিহিত হবেন।

আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে অথবা আইনসভা ভেঙে গেলে, পরবর্তী অন্যূন ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন হবে, তবে যদি নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হয় সে ক্ষেত্রে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণ মাত্র এই সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে।

 

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাতটি মূল সুপারিশের সারসংক্ষেপ হলো-

১. সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র প্রস্তাব রেখেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস।

৪. অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব।

৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ।

৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ।

৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

 

কমিশন, সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ), ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪১(খ), ১৪১(গ) ও ১৫০(২) অনুচ্ছেদ বিলুপ্তি এবং এ সংশ্লিষ্ট পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফশিল সংবিধানে না রাখার সুপারিশ করেছে। ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাসসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ করার সুপারিশ করে কমিশন। জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০। নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে, সরাসরি ভোটে।

এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তারাও নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। এর মধ্যে ১০০ জন নির্বাচিত হবেন আনুপাতিক পদ্ধতিতে। বাকি পাঁচটি আসনের সদস্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনও কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) মনোনীত করবেন। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি।

সংস্কার কমিশন উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের সব বিভাগে হাইকোর্ট বিভাগের সমান এখতিয়ার সম্পন্ন হাইকোর্টের স্থায়ী আসন প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে। বিচারক নিয়োগে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠনের জন্য বলেছে। কমিশন বিচার বিভাগকে পূর্ণ আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এছাড়াও কমিশন অধস্তন আদালতের পরিবর্তে স্থানীয় আদালত ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয়ভাগের অধিকারগুলো সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করেছে কমিশন, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, একজন সংসদ সদস্য একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রধান এই তিনটির যে কোনও একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না। এর পাশাপাশি অর্থ বিল ছাড়া নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে এবং আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সব সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরবর্তীকালের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ও শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের বীজ ৭২ সালের সংবিধানের মাঝেই নিহিত ছিল। এর ফলে প্রতিটি আমলেই ক্ষমতার পুঞ্জীভবন আরও ঘনীভূত হয়েছে, আমলাতান্ত্রিকতা আরও প্রকট রূপ পেয়েছে, বিচারবিভাগ ক্রমশ বেশি বেশি হারে দলীয়করণের শিকার হয়েছে, জবাবদিহির অভাবে ক্ষমতাসীনদের আর্থিক দুর্নীতি আরও প্রবল চেহারা নিয়েছে। একইভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা দল, রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধ্বংস করেছে। এভাবে ১৯৭২ সালে একজন একক ব্যক্তি ও একটি দলকে কেন্দ্রে রেখে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত উত্তরোত্তর স্বৈরতন্ত্রী চেহারা ধারণ করতে করতে অবশেষে বাংলাদেশ জুড়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। অবশেষে যার উৎখাত হয়েছে ২৪এর জুলাইয়ে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।

রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ও পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, উক্ত কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিক আটক করা প্রায় ২৮০ জনের মধ্যে বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করা হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির বিতর্ক নিয়ে মন্ত্রী জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় একটি বিতর্কিত জমি (প্রায় ৩৫ কাঠা) নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামক একটি বিল্ডার গোষ্ঠী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তিনি বলেন, ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতের আঁধারে একপক্ষ দখল করতে গেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়। ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং গুলির খোসাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। উক্ত ঘটনায় ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে চাঁদাাবাজ দল হিসেবে অভিযোগ উত্থাপন করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী লিখিত মামলা দায়ের করলে পুলিশ গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত সম্পন্ন করবে।

মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সংঘটিত উক্ত ঘটনায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (Departmental Proceedings) রুজু করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ঘটনাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ইতোমধ্যে ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন সম্পর্কিত এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে সার্বিক বিষয়টি মূল্যায়নের দায়িত্ব তিনি সচেতন জনগণের ওপর ছেড়ে দেন।পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও প্রশাসনিক বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব অবহেলা বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু বদলিই শেষ পদক্ষেপ নয়। কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের নজির উল্লেখ করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ বরদাশত করা হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস