খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চায়ের জন্য বিখ্যাত হবিগঞ্জ

অনাবৃষ্টি কবলে হবিগঞ্জ জেলায় ২৪ টি চা বাগানে লোকসানের শঙ্কায় বাগান কর্তৃপক্ষ

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
অনাবৃষ্টি কবলে হবিগঞ্জ জেলায় ২৪ টি চা বাগানে লোকসানের শঙ্কায় বাগান কর্তৃপক্ষ

চায়ের জন্য বিখ্যাত হবিগঞ্জ। অনাবৃষ্টি কারণে হবিগঞ্জ জেলায় চারটি উপজেলায় ২৪ টি চা বাগানের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। ২৪ টি চা বাগানের আয়তন ১৫, ৭০৩, ২৪ হেক্টর। নতুন চলতি বছরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় , এখনো চা বাগানে চা পাতা কুড়ি বেড় হচ্ছে না। তীব্র রৌদ্র কারণে চা বাগানে আশঙ্কা জনক হারে চা পাতার উৎপাদন। প্রতিটি চা বাগানের ভেতর থাকা ছোট-বড় ছড়া গুলো জলাশয় শুকিয়ে গেছে। যে কারণে প্রতিটি চা বাগানে পানির জন্য সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার। জানা যায়, কোনো কোনো চা বাগানে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০ শ থেকে ২৫ শত কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। প্রতি বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয় চা-পাতা কুড়ি উত্তোলন। এ চলতি বছর দেখা নেই হবিগঞ্জ জেলায় বৃষ্টি। শুকিয়ে যাচ্ছে চা গাছ গুলো। ফলে কোনো কোনো চা-বাগান গুলোতে পানির পাম্প দিয়ে চা গাছে পানি দিলে খরচ হয় অতিরিক্ত। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , বাগানে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না। পানির জন্য অনেক শ্রমিক দূর দুরান্ত থেকে পানি নিয়ে এনে খাবার খায় ও বস্তি এলাকায় গিয়ে গোসল করতে দেখা যায়। এমনকি বাংলা ও স্টাফ কোয়ার্টার গুলোতে নেই পানি কিন্তু শ্রমিকদেরকে দিয়ে পানি আনতে হচ্ছে। একসময় বাগানে কুয়া পানি ব্যবহার করতো। বর্তমানে কোন কোন বাগানে খুবই কম কুয়া রয়েছে। এবছর বাগানে সবুজ চা কুড়ি সমারোহ থাকার কথা কিন্তু নেই সেখানে নতুন চা কুড়ি প্রভাব। তীব্র রৌদ্র কারণে চা গাছে মশা ও ফুকা মাকড় বাসা বাধছে এবং গাছ গুলো মরে যাচ্ছে।

যে কারণে বর্তমান মৌসুমে চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি চা বাগান লোকসানের দিকে পড়বে বাগান কর্তৃপক্ষ। চুনারুঘাটে লাল চান্দ চা বাগানের চা শ্রমিক বাসন্তী বাওড়ি বলেন, প্রতি বছরে মার্চ মাস আসলে আমরা দিনভর চা-পাতা কুড়ি উত্তোলন করি কিন্তু এ বছর বৃষ্টি পানি না হওয়াতে চা-পাতা কুড়ি বেড় হচ্ছে না। এমন কি আমাদের গোসল করা ও খাওয়ার পানি পাচ্ছি না। বাগানে নতুন কুড়ি না থাকায় আমাদের কাজ কর্ম কমে গেছে। চা পাতা কুড়ি উত্তোলন না করলে বাগান কর্তৃপক্ষ কি ভাবে মজুরি দিবে। এর পর ও বাগান কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিক মজুরি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা বুঝি বাগান কর্তৃপক্ষ অনেক লোকসান হচ্ছে। দেউন্দি চা বাগানের মুন্ডা বাওড়ি বলেন, আমাদের বাগানে কাজ করেই সংসার চলে । আবার কেউ বাগানে কাজ না করে বাহিরে বস্তি ও শহরে কাজ করে সংসার চালানো হচ্ছে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিটি বাগান লোকসান হচ্ছে। এদিকে দেউন্দি চা বাগান কোম্পানি ডেপুটি সহকারী ম্যানেজার দেবাশীষ রায় বলেন, আমাদের দেউন্দি টি কোম্পানি সহ জেলার প্রতিটি চা বাগানে অনাবৃষ্টি কারণে চা উৎপাদন মারাত্মক ভাবে ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দিন দিন আমাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হবে। অপরদিকে মাধবপুর উপজেলা নোয়াপাড়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহাগ আহমেদ বলেন, গত ২০২৪ সালে তীব্র রৌদ্রে শ্রমিক অসন্তোষ সহ নানা কারণে বাগান গুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চা-পাতা উৎপাদন কম হয়। চলতি বছর ক্ষতির পরিমাণ আর-ও বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা কিছুটা কমে আসবে।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস