খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

জনমনে আতংক, সংঘর্ষের আশঙ্কা

ফরিদগঞ্জে একই স্থানে দুই প্রার্থীর গণসংযোগ ও গনমিছিল

ফারুক আহমেদ খান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে একই স্থানে দুই প্রার্থীর গণসংযোগ ও গনমিছিল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুর ৪ ফরিদগঞ্জ উপজেলায়ও নির্বাচনী হাওয়া বইছে। ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন দলের সর্বমোট ৮ জন প্রার্থী। সকল প্রার্থীরা প্রতিদিন তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামের বাড়ি ও হাটবাজারে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

১ ফেব্রুয়ারী রবিবার ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে সকাল ৯ ঘটিকা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান তার সমর্থকদের নিয়ে চিংড়ি মার্কার সমর্থনে গনমিছিল ও গণসংযোগ করবেন। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ইউনিয়নের গোয়ালভাওর বাজার ও তার আশপাশ এলাকায় গণসংযোগ ও গনমিছিল করার কথা রয়েছে।

পক্ষান্তরে ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুন ও তার সমর্থকরা আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারী রোজ রবিবার একই সময়ে গোয়ালভাওর বাজারে ধানের শীষের সমর্থনে গনমিছিলের আয়োজন করেছে। এ বিষয়ে ১০নং ইউনিয়নের চিংড়ি মার্কার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মঞ্জিল বেপারীর এই প্রতিবেদকে জানান যে, আগামীকাল আমাদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ইউনিয়নের সকল গ্রামের গণসংযোগের প্রোগ্রাম সিডিউল অনুযায়ী ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গোয়ালভাওর বাজারে গণসংযোগ হওয়ার কথা। কিন্তুু বিভিন্ন লোকমুখে শুনতে পাই ধানের শীষের প্রার্থী সহ কর্মী সমর্থকরা নাকি আগামীকাল ৩টায় গোয়ালভাওর বাজারে গণসংযোগ করবে।

এ বিষয়ে মঞ্জিল বেপারি অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মোঃ আব্দুল হান্নানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টা জানতে চাইলে তিনি আগামীকালের প্রোগ্রামে কথা নিশ্চিত করেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ধানের শীষের প্রোগ্রাম সিডিউল অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারী রোজ রবিবার ধানের শীষের প্রার্থীর গণসংযোগ ১৪নং ফরিদগঞ্জ ইউনিয়নে হওয়ার কথা। তাহলে হঠাৎ আগামীকাল কেন ধানের শীষের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা আগামীকাল ১০নং ইউনিয়নে প্রোগ্রাম দিলেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারন মানুষ।

আগামীকালের ১০নং ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থীর গণসংযোগ ও গনমিছিলের প্রোগ্রাম প্রত্যাহার না করলে উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের গন্ডগোল ও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন নিরীহ জনগন।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।