খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী

সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে

মোঃ আঃ কুদ্দুস, মনোহরদী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আমরা পত্রিকা পড়ি কাগজ দেখার জন্য না, সাংবাদিকদের লেখা দেখার জন্য। আপনাদের লেখাটা যেন সব সময় নেগেটিভ না হয়, পজেটিভ লিখেন তাহলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে মনোহরদী প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, যদি আমার বা আপনাদের কোন কাজে কর্মে সরকারের উপর কোন বদনাম আসে বা সরকারের বিরুদ্ধে যদি সাংবাদিকরা লেখার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন আমাকে যেমন আমার প্রধানমন্ত্রী ছাড়বেন না বলে দিয়েছেন আপনাদের ও কিন্তু আমি ছাড়বো না। একদম সোজা কথা৷ বিন্দুমাত্র যদি অন্যায় কেউ করে, সমাজ বিরোধী কাজ কেউ করে বা সহযোগীতা করে যেখানে যাকে পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আজ থেকে ২ বছর আগে সরকার চালালো আর আজকের সরকার চালানো অনেক পার্থক্য রয়েছে । এখনকার যে তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক, বুদ্ধিজিবী, বিরোধী দল সবাই আমাদের দিকে বাজপাখির মতো তাকিয়ে আছে নোট করার জন্য আমরা কি করি৷ সমাজ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সমাজ এখন ভালো কাজ দেখতে চায়৷ কাজেই সমাজ জেগে ওঠবে একটা সরকারের বিরুদ্ধে তখন আড়াই মাস না আড়াই বছর না কি আড়াই ঘণ্টা সেটা মুখ্য ব্যাপার না। আমরা খারাপ কাজ করলে মানুষ জেগে ওঠবে৷

মন্ত্রী বলেন, আমাদের কোন কাজ কর্মে যেনো আমাদের সরকার অপমানিত না হয়। সরকারের কাজে যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সাবধান থাকবেন। সরকারকে ৫ বছর চলতে দেওয়াই আমাদের কর্মের সার্থকতা।

মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সজিব মিয়া, মনোহরদী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুল ইসলাম, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন ও মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন বর্মণ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা, সহসভাপতি কাজী আনোয়ার কামাল, সদস্য শ্যামল মিত্র, মনোহরদী পৌর বিএনপির আহবায়ক বদরুল ইসলাম মোল্লা বাবুল, সদস্য সচিব মো. হান্নান মিয়া, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, মুহা. ইসমাইল হোসাইন খানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসন, রাজনীতিবীদ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।