ডিজিএম সাইফুল আছেন পরকিয়ায় ব্যস্ত
পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের পরকীয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে ফরিদগঞ্জ বাসিকে
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার জনগণ বিগত কয়েক মাস ধরে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। চরম বিদ্যুৎ সংকটের কারনে গেলো কোরবানি ঈদে অনেকেই সময় মতো পশু কোরবানি দিতে পারেনি। বিদ্যুতের এই চরম সংকটের কারনে গ্রামের মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সাইফুল ইসলাম ইসলাম আছেন পরকিয়ায় ব্যস্ত। নিজের মুঠোফোন বন্ধ রেখে গত ২৬ মে রাতে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ভাটিয়ালপুর গ্রামে জনৈক এক নারীর সাথে অনৈতিক কাজের সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা খেয়ে ডিজিএম সাইফুল ইসলাম গণধোলাইয়ের স্বীকার হোন। স্থানীয় জনতা ও ফরিদগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। যা পরেরদিন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়া সহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় শিরোনাম প্রকাশিত হয়।
বিদ্যুৎ সংকটে ভুক্তভুগী জনগন ঈদের পরের দিন স্হানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ হান্নান সাহেবের কাছে এ বিষয়ে জানালে এমপি সাহেব তাৎক্ষণিক ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ও এজিএমকে ফোন করেন কিন্তুু তারা কেউ এমপি সাহেবের ফোন রিসিভ করেননি। দৈনিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে এক ঘন্টাও ফরিদগঞ্জে বিদ্যুৎ থাকে না। সাধারন মানুষ মোবাইলটা পর্যন্ত চার্জ দিতে পারছে না। ফলে সাধারন মানুষ যোগাযোগ সংকটেও পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাবীতে ফরিদগঞ্জের মানুষ যে কোন সময় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও সহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে পারে।
সরকারকে বিপাকে ফেলতে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। জনশ্রুতি রয়েছে যে ফরিদগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে পরকীয়ায় হাতেনাতে ধরে ফেলায় সে তার অধীনস্থ সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ফরিদগঞ্জবাসীকে এবার হাতে না মেরে বিদ্যুৎ না দিয়ে গরমে মারা হবে। অর্থাৎ তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য হে এজাতীয় পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে এলাকার জনগণ বিদ্যুতে কষ্ট পায়। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করা হলে তারা কেহই ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে সদরে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন যে এটা স্থানীয় অভিযোগ কেন্দ্র কামতা বাজার অথবা ফরিদগঞ্জে যোগাযোগ করতে। মোটের উপর কেউই ফোন ধরেন না। জনগণকে তারা মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না। এক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতের ঢাকা হেড অফিসে পরিচালক অপারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ রহিম মল্লিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তিনিও কোন ভাবেই ফোন পিক করেননি। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে কামতা অফিসে বারবার ফোন করা হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। গত ২৯ তারিখে কামতা অফিস থেকে জানা গেল যে লোকসংকটের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে সেটা সারানোর জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় নি বা যাচ্ছে না বিধায় জনগণ বিদ্যুতের জন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তবে যতটুকু জানা যায় পল্লী বিদ্যুতের ফরিদগঞ্জের ডিজিএম সাহেব পরকীয়া ধরা পরার কারণে জনগণকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এখনো ঘটাচ্ছে। জনগণ জানতে চাই প্রকৃত ঘটনা কি? যেখানে প্রতিবেশী হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, লক্ষ্মীপুরে এবং রামগঞ্জে বিদ্যুত সরবরাহের কোন সমস্যা হচ্ছে না, সেখানে ফরিদগঞ্জের ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে এলাকাবাসীর নিবেদন বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য কতিপয় অসাধু স্থানীয় লোকজন এবং পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে এই জাতীয় ঘটনা ঘটছে। বিষয়টির উচ্চতর তদন্ত দরকার। এলাকার জনগণ চাচ্ছে বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের যে কর্মকর্তা কর্মচারীরা রয়েছেন তাদেরকে এখান থেকে বদলি করে নতুন কর্মকর্তা কর্মচারীদের কে দিয়ে ফরিদগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ পরিচালনা করার জন্য। যেখানে ঈদের ছুটিতে হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সার্ভিস, গ্যাস এবং ডিপিডিসি, DESCO, ওয়াসা সড়ক ও জনপদ এবং সিটি কর্পোরেশন তাদের সকল ছুটি বাতিল করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছেন সেখানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারী ছুটিতে চলে যাওয়া, ফোন ধরার জন্য কোন লোক না রাখা খুবই দুঃখজনক। জনগণ এর প্রতিকার চাই। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফরিদগঞ্জের অসৎ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার জন্য জনগণ জোর দাবি জানাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন