খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্বর্ণ বিক্রিতে লাভ? দিতে হবে ১৫ শতাংশ কর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
স্বর্ণ বিক্রিতে লাভ? দিতে হবে ১৫ শতাংশ কর

স্বর্ণ বিক্রির আয়ে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স, জানাল এনবিআর

ঢাকা, ১৫ জুন: ব্যক্তিমালিকানাধীন স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, বরং মূলধনি সম্পদ (ক্যাপিটাল অ্যাসেট) হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) পরিশোধ করতে হবে।

রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিলবিষয়ক এক সেমিনারে এনবিআরের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশিস বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার মতে, অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকারের তথ্য উল্লেখ করলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ সৃষ্টি করে।

জাফর ইমাম বলেন, সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সম্পদ ঘোষণার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং কর ফাঁকি কমানো সম্ভব হবে।

সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। আবাসন খাতসহ বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের দাবি উঠলেও সরকার শুরু থেকেই এ ধরনের সুবিধা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জাফর ইমাম বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম এবং কর ফাঁকি রোধে নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানো হয়নি। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা ব্যবসা সহজীকরণে বেশ কিছু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তারা জানান, শিগগিরই অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্ন জমার পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে, যা ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত কর ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ, সম্পদের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং সাধারণ করদাতাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে।

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।