ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত
ঢাকার ডাক আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে ভয়াবহ রাশিয়ার সামরিক বাহিনী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৯০ জন আহত হয়েছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ ও খারকিভ এবং আরও কয়েকটি লক্ষ্যে এসব হামলা চালানো হয়।রাশিয়ার দাবি, সম্প্রতি তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইউক্রেইনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক্স এ এক পোস্টে জানান, রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুসহ পাঁচজন খারকিভ অঞ্চলের আর দুইজন কিইভ অঞ্চলের। বাকিরা অন্যান্য অঞ্চলের। এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে রাতভর সম্ভাব্য আকাশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের ছয় মাসের মেয়াদ শুরু উপলক্ষে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কিইভে হামলার খবর পেয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে যান।কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, রাজধানীর একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় সেটির ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকা জানান, কিইভে হামলায় দুই শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছে এবং শহরের তিন ডজন স্থান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তৈমুর তকাচেনকা বলেন, “শত্রু পক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে।”
এর আগের একটি পোস্টে মেয়র ক্লিৎসকো জানিয়েছিলেন, আহতদের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের প্যারামেডিক এবং চালকেরাও রয়েছেন। কিছু মানুষ এখনও ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।শহরের কেন্দ্রস্থলের শেভচেঙ্কো বুলেভার্ডের একটি ভবনের চূড়ায় আগুন জ্বলছে। শহরের অন্য অংশে ভবনের জানালা ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য গাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কিইভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর চারপাশের অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে জানিয়েছে, সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই ইউক্রেইনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলা। রাতভর দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ হামলার সতর্কতা জারি করায় মানুষজন শিশু, আসবাবপত্র, তাঁবু এবং পোষা প্রাণীগুলোকে নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
ইউক্রেইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা জাপান সফরকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ইউক্রেইনের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরি করবেন না! কিইভ এক ভয়াবহ রাত পার করার পর আমাদের অংশীদারদের কাছে এটিই প্রধান অনুরোধ।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেইনের আলোচনার প্রস্তাব ক্রেমলিন প্রত্যাখ্যান করেছে।এদিকে ইউক্রেইনীয় হামলা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে জোরদার হওয়ায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে পরিশোধিত জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়া ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে। মস্কো থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের নভোসিবিরস্ক অঞ্চলের জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোকে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেইনীয় ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার সমৃদ্ধ নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে।এছাড়া লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে সাতটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে আবাসিক বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যু ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন।
ঢাকার ডাক নিউজ/এস

আপনার মতামত লিখুন