খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজছেন স্বজনেরা, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন

সোহেল রানা : গলাচিপা পটুয়াখালী 
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৬ জেলেকে খুঁজছেন স্বজনেরা, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় পটুয়াখালীর গলাচিপায় চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জন জীবিত ফিরলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন। বিপর্যস্ত এই জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন। নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার পানপট্টি ইউনিয়নের এমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার ১১ জন জেলে নিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে যায়। আকস্মিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে মাঝসমুদ্রে ট্রলারটি ডুবে যায়। সেখান থেকে পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ছয়জনের খোঁজ এখনো মেলেনি।

 

দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের মৃত গেদু হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন হাওলাদার ও একই গ্রামের মো. এমাদুল। এছাড়া গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম, মো. আল আমিন এবং সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নিখোঁজদের বাড়িতে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি। প্রিয়জনের বেঁচে ফেরার অনিশ্চিত অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা। সরকারি উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে পৃথক আরেকটি ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

পুরো ঘটনাটি এবং উদ্ধার তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এমপি। তাঁর নির্দেশনায় মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ছুটে যান গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।

 

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর স্থানীয় প্রতিনিধি আবু নাঈম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত থেকে পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন।

 

ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলেকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ইউএনও বলেন, “নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে আমরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সাগরে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।”

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (ADNEC) অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।

বক্তব্যে আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলাজট কমানো এবং সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসটির আয়োজক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস