খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

তিস্তা ইস্যুতে স্ট্যান্টবাজির রাজনীতির দিন বাংলাদেশে শেষ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
তিস্তা ইস্যুতে স্ট্যান্টবাজির রাজনীতির দিন বাংলাদেশে শেষ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: তিস্তা ইস্যুতে স্ট্যান্টবাজির রাজনীতির দিন বাংলাদেশে শেষ হয়ে এসেছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার কাজ শুরু করেছে। বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ।

১০ জুলাই শুক্রবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সার্বিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্তে নির্মাণাধীন ‘পঞ্চগড় গেট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিএনপি সরকারের নির্বাহী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। ঠিক এই সময়ে কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতসহ ১১ দল আন্দোলনে নেমেছে। আমরা তিস্তা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। যারা আজ আন্দোলন করছে, বিএনপি যখন তিস্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে, তখন তাদের কোনো অবস্থান ছিল না। তিস্তা নিয়ে তাদের কোনো স্বপ্ন ছিল না, কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। এখন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আন্দোলনের নামে স্ট্যান্টবাজি করছে। এ ধরনের রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অচিরেই শুরু হবে এবং সরকার এটি বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, পঞ্চগড়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করে এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্তে ‘পঞ্চগড় গেট’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি জেলার প্রবেশদ্বারে একটি নান্দনিক স্থাপনা হিসেবে পঞ্চগড়ের পরিচিতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।