খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ইংল্যান্ড চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে ইংল্যান্ড চ্যালেঞ্জ

ঢাকার ডাক স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখা আর্জেন্টিনার সামনে এখন ইংল্যান্ড চ্যালেঞ্জ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মহারণের আগে লা আলবিসেলেস্তেদের উদ্‌যাপনে যেন সেই আবহই ফুটে উঠল। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ চারের প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারিত হলো লিওনেল মেসিদের কণ্ঠে।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল করে জয় নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। সে সময় তাঁদের মুখে শোনা যায়, ‘যে লাফাবে না, সে ইংলিশ।

এর আগে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টায় খেলতে নামবে এই দুই দল। র‍্যাঙ্কিংয়ের ২ ও ৪ নম্বর দলের লড়াই ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিপক্ষে।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই ফুটবলের বাইরেও দীর্ঘদিনের আবেগ ও ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের মানুষের কাছে এই ম্যাচ আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড গোল এবং পরে তাঁর অসাধারণ একক নৈপুণ্যের স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন।১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০১১ সালের নভেম্বরে একটি প্রীতি ম্যাচে।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

রায়হান উদ্দিন সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরের প্রাচীন নিদর্শন তালিকাভুক্ত ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে গৌরীপুর জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন—বর্তমানে গৌরীপুর মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের সামনে—সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরি ও এসিক এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

এর আগে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক ধান মহালস্থ ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির মিলনায়তনে প্রাচীন নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর ডিসপ্লে ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

রবিবারের সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, গৌরীপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. আনোয়ার হোসেন, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মীর হোসেন মিরন, গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিল, সাংবাদিক মো. দিলীপ কুমার দাস এবং এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শাহ প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের উত্তরের জনপদ গৌরীপুর রাজা-জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক জনপদ। এখানে মুঘল, সুলতানি ও ব্রিটিশ আমলের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রয়েছে ১২টি জমিদারবাড়ির ইতিহাস ও স্থাপত্যনিদর্শন, প্রাচীন মসজিদ, ঐতিহাসিক দীঘি, মন্দির, মধ্যযুগীয় মাজার, দুটি কেল্লা বা ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ এবং ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধি।

 

এ ছাড়া পূর্ব বাংলার গীতিকায় সমৃদ্ধ বীরাঙ্গনা সখিনার ইতিহাস ও সমাধি এবং মুঘল আমলের খাজা উসমান খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কেল্লার নিদর্শনও গৌরীপুরের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

তারা বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্ননিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গৌরীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য উপজেলার প্রাচীন নিদর্শনগুলো জরিপ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষণ ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

 

স্মারকলিপি প্রদান

সমাবেশ শেষে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

স্মারকলিপিতে গৌরীপুরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্তি, সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরীপুরের হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।